অনলাইনে জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন করার ধাপসমূহ এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র।

জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন করার নিয়ম: স্মার্ট বাংলাদেশে এখন সব সেবা আপনার হাতের নাগালে। আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডিতে কি কোনো তথ্য ভুল আছে? বর্তমানে জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন করার নিয়ম আগের চেয়ে অনেক সহজ হয়েছে। তাই আপনাকে আর বারবার নির্বাচন অফিসে দৌড়াতে হবে না। এখন আপনি ঘরে বসেই নিজের স্মার্টফোন ব্যবহার করে সংশোধনীর আবেদন করতে পারবেন। ফলে আপনার মূল্যবান সময় এবং পরিশ্রম দুই-ই বাঁচবে।

জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন করার নিয়ম

প্রকৃতপক্ষে, একটি নির্ভুল এনআইডি কার্ড নাগরিক সুবিধার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাসপোর্ট করা থেকে শুরু করে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা—সবখানেই সঠিক এনআইডি প্রয়োজন হয়। ইদানিং বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের অনলাইন পোর্টাল অনেক বেশি ইউজার-ফ্রেন্ডলি করা হয়েছে। তাই সাধারণ মানুষ সহজেই ইন্টারনেটের মাধ্যমে নিজেদের তথ্য আপডেট করতে পারছেন। এর মাধ্যমে আপনি নাম, জন্ম তারিখ বা ঠিকানার ভুলগুলো দ্রুত সংশোধন করে নিতে পারবেন।

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ গেজেট এবং অনলাইন সার্ভারের লাইভ ইউজার ইন্টারফেস বিশ্লেষণের ভিত্তিতে আমরা এই গাইডটি সাজিয়েছি। আমরা গত ১০ বছরের টেকনিক্যাল সাপোর্ট অভিজ্ঞতার আলোকে প্রতিটি ধাপ ব্যাখ্যা করেছি। আমাদের এই নির্দেশিকাটি অনুসরণ করলে আপনি আবেদন ফরম পূরণের প্রতিটি টেকনিক্যাল ধাপ নির্ভুলভাবে বুঝতে পারবেন। তাই ভুল হওয়ার কোনো সম্ভাবনা থাকবে না। আবেদন করার শুরু থেকে এনআইডি কার্ড ডাউনলোড করা পর্যন্ত প্রতিটি তথ্য এখানে দেওয়া হয়েছে।

অনেকেই অনলাইন আবেদন করতে গিয়ে নানা জটিলতায় পড়েন। বিশেষ করে ফেস ভেরিফিকেশন বা ফি পেমেন্ট নিয়ে অনেকেরই দুশ্চিন্তা থাকে। তবে এই আর্টিকেলে আমরা সব সমস্যার সহজ সমাধান নিয়ে এসেছি। এখানে আপনি জানতে পারবেন কোন সংশোধনের জন্য কোন কাগজপত্র প্রয়োজন। একইভাবে আমরা দেখব কীভাবে বিকাশ বা নগদের মাধ্যমে ফি জমা দিতে হয়। চলুন তবে দেরি না করে এনআইডি সংশোধনের পূর্ণাঙ্গ প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে জেনে নেই।

অনলাইনে এনআইডি সংশোধনের প্রাথমিক প্রস্তুতি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন করার জন্য প্রথমে আপনাকে প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র গুছিয়ে নিতে হবে। সাধারণত শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, জন্ম নিবন্ধন সনদ এবং নাগরিক সনদপত্রের প্রয়োজন হয়। আপনার সংশোধনীর ধরন অনুযায়ী কাগজপত্রের তালিকা ভিন্ন হতে পারে।

অনলাইনে আবেদন শুরু করার আগে সঠিক কাগজপত্র হাতে রাখা জরুরি। সঠিক প্রমাণপত্র না থাকলে আপনার আবেদনটি বাতিল হতে পারে। তাই আবেদনের ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করুন। নিচে কোন সংশোধনের জন্য কী লাগবে তা বিস্তারিত দেওয়া হলো।

ব্যক্তিগত তথ্য সংশোধন

আপনার নিজের নাম বা জন্ম তারিখ পরিবর্তনের জন্য সরকারি নথি প্রয়োজন। প্রথমত, আপনার এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষার সার্টিফিকেট সবথেকে শক্তিশালী প্রমাণ। তবে আপনার যদি সার্টিফিকেট না থাকে, তবে ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন সনদ ব্যবহার করতে পারেন।

এছাড়া পাসপোর্ট বা ড্রাইভিং লাইসেন্সের কপিও প্রমাণের জন্য গ্রহণ করা হয়। বাস্তবে সঠিক তথ্যের সপক্ষে অন্তত দুটি শক্তিশালী ডকুমেন্ট আপলোড করা ভালো। ফলে আপনার আবেদনটি দ্রুত অনুমোদনের সম্ভাবনা বাড়ে।

পিতা-মাতার তথ্য সংশোধন

অনেকের এনআইডিতে মা বা বাবার নামে ভুল থাকে। এটি সংশোধনের জন্য মা-বাবার এনআইডি কার্ডের কপি প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত, আপনার ভাই বা বোনের এনআইডি কার্ডের কপিও সহায়ক ডকুমেন্ট হিসেবে কাজ করে।

যদি বাবা বা মা মৃত হন, তবে তাদের মৃত্যু সনদ আপলোড করতে হতে পারে। এছাড়া ওয়ারিশন সনদপত্র অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজন হয়। তাই এই কাগজগুলো আগে থেকেই স্ক্যান করে রাখুন।

ঠিকানা ও অন্যান্য তথ্য আপডেট

আপনি যদি বর্তমান বা স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তন করতে চান, তবে স্থানীয় প্রমাণ লাগবে। এক্ষেত্রে ইউপি চেয়ারম্যান বা কাউন্সিলরের দেওয়া নাগরিক সনদপত্র প্রয়োজন।

অন্যদিকে, আপনার ঠিকানার সপক্ষে ইউটিলিটি বিলের কপি জমা দিতে হবে। যেমন: বিদ্যুৎ বিল বা পানির বিলের কপি। এছাড়া জমির পর্চা বা বাড়ির ট্যাক্স রসিদও প্রমাণ হিসেবে কাজ করে। ইদানিং ডিজিটাল পদ্ধতিতে এই যাচাইকরণ প্রক্রিয়া অনেক দ্রুত সম্পন্ন হয়।

এনআইডি সংশোধনীর জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের চেকলিস্ট

নিচের টেবিলটি দেখে আপনার প্রয়োজনীয় কাগজগুলো মিলিয়ে নিন:

সংশোধনীর ধরন প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা (চেকলিস্ট)
নাম সংশোধন এসএসসি সনদ / জন্ম নিবন্ধন / পাসপোর্ট / কাবিননামা
জন্ম তারিখ এসএসসি সনদ / ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন / পাসপোর্ট
পিতা-মাতার নাম মা-বাবার এনআইডি / ভাই-বোনের এনআইডি / মৃত্যু সনদ
ঠিকানা পরিবর্তন নাগরিক সনদ / বিদ্যুৎ বিল / জমির পর্চা / গ্যাস বিল

বাস্তব অভিজ্ঞতা ও একটি সাধারণ ভুল

বাস্তবে অনেকেই পুরনো বা হাতে লেখা জন্ম নিবন্ধন আপলোড করেন। এটি একটি সাধারণ ভুল। বর্তমানে নির্বাচন কমিশন শুধুমাত্র অনলাইন বা ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন গ্রহণ করে।

ধরুন, আপনি Legal Document Verification ছাড়াই আবেদন করলেন। সেক্ষেত্রে আপনার আবেদনটি ‘Pending’ হয়ে পড়ে থাকতে পারে। তাই আবেদনের আগে নিশ্চিত হোন আপনার স্ক্যান করা ফাইলগুলো পরিষ্কার এবং পঠনযোগ্য।

ইদানিং Cyber Security Policy অনুযায়ী সার্ভারে আপলোড করা ফাইলগুলোর সাইজ ১ মেগাবাইটের নিচে হতে হয়। তাই ফাইলগুলো পিডিএফ (PDF) বা জেপিজি (JPG) ফরম্যাটে সেভ করে নিন। সঠিকভাবে কাগজপত্র দিলে আপনার এনআইডি সংশোধন অনেক সহজ হবে।

ধাপে ধাপে অনলাইন আবেদন ফরম পূরণের নিয়ম

এনআইডি সংশোধনের জন্য প্রথমে আপনাকে services.nidw.gov.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। এরপর ‘NID Wallet’ অ্যাপের মাধ্যমে ফেস ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করতে হবে। এই প্রক্রিয়াটি শেষ হলে আপনি নিজের প্রোফাইলে ঢুকে তথ্য পরিবর্তনের সুযোগ পাবেন।

অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়াটি বেশ কয়েকটি ধাপে বিভক্ত। এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল কাজ, তাই প্রতিটি তথ্য নির্ভুলভাবে দেওয়া জরুরি। বাস্তবে আপনার একটি ছোট ভুল পুরো আবেদনটিকে আটকে দিতে পারে। নিচে আবেদন করার সঠিক পদ্ধতি আলোচনা করা হলো।

রেজিস্ট্রেশন ও লগইন প্রক্রিয়া

প্রথমত, এনআইডি সেবার অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন। সেখানে ‘রেজিস্ট্রেশন’ বাটনে ক্লিক করে আপনার এনআইডি নম্বর এবং জন্ম তারিখ দিন।

এরপর আপনার বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানার তথ্য প্রদান করুন। পরবর্তীতে আপনার সচল একটি মোবাইল নম্বর দিন। এই নম্বরে একটি ওটিপি (OTP) কোড পাঠানো হবে। কোডটি সঠিকভাবে বসিয়ে পরবর্তী ধাপে যান।

ফেস ভেরিফিকেশন ও এনআইডি ওয়ালেট

দ্বিতীয়ত, আপনাকে NID Wallet অ্যাপটি স্মার্টফোনে ডাউনলোড করতে হবে। পিসির স্ক্রিনে আসা কিউআর (QR) কোডটি এই অ্যাপ দিয়ে স্ক্যান করুন।

এরপর আপনার নিজের ফেস ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করুন। এটি সফল হলে আপনার প্রোফাইলটি পিসিতে ওপেন হয়ে যাবে। বাস্তবে এটি একটি Secure E-Government Portal নিশ্চিত করার আধুনিক পদ্ধতি।

তথ্য পরিবর্তন ও ডকুমেন্ট আপলোড

প্রোফাইল ওপেন হওয়ার পর ‘এডিট’ অপশনে ক্লিক করুন। এখানে আপনি যে তথ্যটি সংশোধন করতে চান সেটি টাইপ করুন।

তবে মনে রাখবেন, যে তথ্যটি পরিবর্তন করবেন তার সপক্ষে প্রমাণ আপলোড করতে হবে। আপনার স্ক্যান করা কাগজপত্রগুলো নির্দিষ্ট স্থানে আপলোড করুন। ফাইলের সাইজ যেন খুব বেশি বড় না হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন। সবশেষে তথ্যগুলো পুনরায় চেক করে ‘সাবমিট’ করুন।

ফেস ভেরিফিকেশন সফল করার ৫টি প্রো-টিপস

অনেকেই ফেস ভেরিফিকেশন করতে গিয়ে সমস্যায় পড়েন। নিচের টিপসগুলো অনুসরণ করলে আপনি সহজেই এটি করতে পারবেন:

  • পর্যাপ্ত আলো: ভেরিফিকেশন করার সময় আপনার মুখে যেন পর্যাপ্ত আলো থাকে।
  • ক্যামেরা স্থির রাখা: স্মার্টফোনটি চোখের উচ্চতায় রেখে স্থিরভাবে ধরুন।
  • মাথা ঘোরানো: অ্যাপের নির্দেশনা অনুযায়ী মাথা ডানে-বামে এবং উপরে-নিচে ধীরে ঘোরোন।
  • চোখের পলক ফেলা: ফেস স্ক্যান করার সময় কয়েকবার চোখের পলক ফেলুন।
  • পরিষ্কার ব্যাকগ্রাউন্ড: আপনার পেছনে যেন কোনো হিজিবিজি ছবি বা উজ্জ্বল আলো না থাকে।

বাস্তব অভিজ্ঞতা ও টেকনিক্যাল ইনসাইট

বাস্তবে অনেক ব্যবহারকারী NID Server ডাউন থাকার কারণে লগইন করতে পারেন না। এটি একটি সাধারণ সমস্যা যা সাধারণত অফিস সময়ে বেশি ঘটে।

ধরুন, আপনি অনেক চেষ্টা করেও কোড পাচ্ছেন না। সেক্ষেত্রে গভীর রাতে বা ভোরে চেষ্টা করা বুদ্ধিমানের কাজ। একইভাবে অ্যাপে ফেস ভেরিফিকেশন না হলে অ্যাপটি একবার ‘Clear Cache’ করে পুনরায় চেষ্টা করুন।

ইদানিং Digital Identity Verification প্রক্রিয়া অনেক বেশি শক্তিশালী করা হয়েছে। তাই অন্যের এনআইডি দিয়ে নিজের ফেস ভেরিফিকেশন করার চেষ্টা করবেন না। এতে আপনার অ্যাকাউন্টটি ব্লক হয়ে যেতে পারে। সব ধাপ সফলভাবে শেষ হলে আপনাকে ফি পেমেন্ট করার অপশনে নিয়ে যাওয়া হবে।

এনআইডি সংশোধন ফি ও পেমেন্ট করার পদ্ধতি

সংশোধনের ফি কত হবে তা আপনার আবেদনের ক্যাটাগরির ওপর নির্ভর করে। সাধারণত প্রথমবার ব্যক্তিগত তথ্য সংশোধনের জন্য ২৩০ টাকা থেকে ৩৪৫ টাকা পর্যন্ত ফি লাগতে পারে। বিকাশ, রকেট বা নগদের মাধ্যমে খুব সহজেই এই ফি জমা দেওয়া যায়।

অনলাইনে আবেদন সাবমিট করার আগে আপনাকে নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে হবে। প্রকৃতপক্ষে, পেমেন্ট সম্পন্ন না হলে আপনার আবেদনটি নির্বাচন কমিশনের কাছে পৌঁছাবে না। তাই সঠিক পরিমাণ টাকা জমা দেওয়া এবং রসিদ সংগ্রহ করা অত্যন্ত জরুরি।

ফি’র ক্যাটাগরি বিশ্লেষণ

প্রথমত, এনআইডি সংশোধনের ফি নির্ভর করে আপনি কততম বার সংশোধন করছেন তার ওপর। প্রথমবার ব্যক্তিগত তথ্য সংশোধনের ফি সাধারণত ২৩০ টাকা (ভ্যাটসহ)।

তবে দ্বিতীয় বা তৃতীয়বার সংশোধন করলে এই ফি ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পায়। অন্যদিকে, আপনার কার্ডটি যদি হারিয়ে যায় তবে ‘রি-ইস্যু’ ক্যাটাগরিতে পেমেন্ট করতে হবে। বাস্তবে ফি’র সঠিক পরিমাণ ওয়েবসাইট নিজে থেকেই হিসাব করে দেয়।

মোবাইল ব্যাংকিং পেমেন্ট গাইড

দ্বিতীয়ত, পেমেন্ট করা এখন আগের চেয়ে অনেক সহজ। আপনি আপনার বিকাশ বা নগদ অ্যাপের ‘Bill Pay’ অপশনে যান। সেখানে ‘NID Service’ সার্চ করে সিলেক্ট করুন।

এরপর আপনার এনআইডি নম্বর এবং আবেদনের ধরন দিন। ফলে আপনার কত টাকা ফি লাগবে তা স্ক্রিনে চলে আসবে। পিন নম্বর দিয়ে পেমেন্ট সফল করুন। একইভাবে আপনি রকেট বা অন্যান্য অনলাইন গেটওয়ে ব্যবহার করতে পারেন। এটি একটি আধুনিক Online Payment Gateway ব্যবস্থা।

চালান ও রসিদ সংগ্রহ

পেমেন্ট সফল হওয়ার পর অ্যাপ থেকে একটি ডিজিটাল রসিদ বা চালান পাবেন। এই রসিদে থাকা ট্রানজ্যাকশন আইডিটি গুরুত্ব সহকারে সংরক্ষণ করুন।

বাস্তবে আবেদন ফরমে এই তথ্যটি প্রয়োজন হতে পারে। এছাড়া পেমেন্ট করার পর পোর্টালে আপনার ব্যালেন্স আপডেট হতে কিছু সময় নিতে পারে। তাই পেমেন্ট করার অন্তত ১০-১৫ মিনিট পর পোর্টালে পরবর্তী ধাপ অনুসরণ করুন।

সংশোধনের ধরন বনাম ফি’র পরিমাণ

নিচের টেবিলটি দেখে আপনি ফি’র একটি ধারণা পেতে পারেন:

সংশোধনের ধরন ফি’র পরিমাণ (ভ্যাটসহ) আবেদনের ধরন (Category)
ব্যক্তিগত তথ্য সংশোধন (১ম বার) ২৩০ টাকা NID Correction
ব্যক্তিগত তথ্য সংশোধন (২য় বার) ৩৪৫ টাকা NID Correction
ঠিকানা বা অন্যান্য তথ্য ১১৫ টাকা Other Correction
হারানো কার্ড রি-ইস্যু (১ম বার) ৩৪৫ টাকা Lost Re-issue

বাস্তব অভিজ্ঞতা ও একটি সাধারণ ভুল

বাস্তবে অনেকে পেমেন্ট করার সময় ভুল ক্যাটাগরি সিলেক্ট করেন। এটি একটি সাধারণ ভুল যার ফলে টাকা কেটে নিলেও আবেদন সাবমিট হয় না।

ধরুন, আপনি তথ্য সংশোধন করবেন কিন্তু পেমেন্ট করেছেন রি-ইস্যু ক্যাটাগরিতে। সেক্ষেত্রে আপনার ব্যালেন্স পোর্টালে শো করবে না। একইভাবে ভুল এনআইডি নম্বরে টাকা পাঠালে তা ফেরত পাওয়া বেশ জটিল।

ইদানিং Digital Identity Management পদ্ধতিতে সব তথ্য অটোমেটিক যাচাই করা হয়। তাই পেমেন্ট করার সময় প্রতিটি ডিজিট ভালো করে মিলিয়ে নিন। সঠিক ক্যাটাগরিতে পেমেন্ট করলে আপনার আবেদনটি দ্রুত পরবর্তী ধাপে যাবে।

আবেদন পরবর্তী ধাপ ও সংশোধিত এনআইডি ডাউনলোড

আবেদন সাবমিট করার পর আপনার কাজ হলো নিয়মিত আবেদনের অবস্থা চেক করা। সাধারণত আবেদন অনুমোদিত হতে ১৫ থেকে ৩০ কার্যদিবস সময় লাগতে পারে। অনুমোদন পাওয়ার পর আপনি অনলাইন পোর্টাল থেকে সরাসরি আপনার নতুন এনআইডি কার্ডের অনলাইন কপি ডাউনলোড করতে পারবেন।

অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার মানেই কাজ শেষ নয়। প্রকৃতপক্ষে, আপনার দেওয়া তথ্যগুলো নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা যাচাই-বাছাই করবেন। এই সময়ে আপনার মোবাইলে বিভিন্ন এসএমএস আসতে পারে। তাই নিয়মিত পোর্টালে লগইন করে আপডেট জানা জরুরি।

আবেদনের বর্তমান অবস্থা চেক

প্রথমত, আপনি এনআইডি পোর্টালের ‘আবেদন’ অপশনে গিয়ে বর্তমান অবস্থা দেখতে পারবেন। যদি সেখানে ‘Pending’ লেখা থাকে, তবে বুঝবেন আপনার তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, যদি কোনো কাগজের ঘাটতি থাকে, তবে সেটিও সেখানে উল্লেখ করা হবে। বাস্তবে অনেক সময় কর্মকর্তারা আপনার কাছে অতিরিক্ত প্রমাণপত্র চাইতে পারেন। তাই পোর্টালে কোনো মেসেজ আছে কি না তা নিয়মিত পরীক্ষা করুন।

এসএমএস নোটিফিকেশন ও অনুমোদন

দ্বিতীয়ত, আপনার আবেদনটি অনুমোদিত হলে মোবাইলে একটি নিশ্চিতকরণ এসএমএস আসবে। এই বার্তায় সাধারণত আপনার সংশোধন সফল হয়েছে বলে জানানো হয়।

ইদানিং এই প্রক্রিয়াটি অনেক দ্রুত করা হয়েছে। ফলে সফল অনুমোদনের পর আপনার প্রোফাইলে ‘ডাউনলোড’ বাটনটি সচল হয়ে যাবে। এটি একটি আধুনিক Secure E-Government Portal এর অন্যতম বড় সুবিধা।

অনলাইন কপি ডাউনলোড ও মুদ্রণ

অনুমোদনের পর পোর্টালে লগইন করে ‘ডাউনলোড’ বাটনে ক্লিক করুন। ফলে একটি পিডিএফ (PDF) ফাইল আপনার ডিভাইসে সেভ হবে।

এই অনলাইন কপিটি আপনি রঙিন প্রিন্ট করে এবং ল্যামিনেটিং করে সব কাজে ব্যবহার করতে পারবেন। বাস্তবে এটি মূল এনআইডি কার্ডের মতোই সমান কার্যকর। একইভাবে আপনার এই ডিজিটাল কপিটি কিউআর কোড স্ক্যানের মাধ্যমে যে কেউ যাচাই করতে পারবে।

আপনার আবেদন দ্রুত অনুমোদনের ৩টি উপায়

যদি আপনার আবেদন দীর্ঘ সময় ধরে ‘Pending’ থাকে, তবে নিচের পদক্ষেপগুলো নিতে পারেন:

  • সঠিক ডকুমেন্ট: নিশ্চিত করুন আপনার আপলোড করা কাগজগুলো একদম পরিষ্কার ছিল।
  • অফিসে যোগাযোগ: অনেকদিন হয়ে গেলে প্রয়োজনীয় মূল কাগজ নিয়ে আপনার উপজেলা নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করুন।
  • হেল্পলাইন ১০৫: যেকোনো জটিলতায় সরাসরি নির্বাচন কমিশনের হেল্পলাইন ১০৫ নম্বরে কল করে সাহায্য নিন।

বাস্তবে আমরা অনেকেই ভাবি আবেদন করলেই সাথে সাথে কাজ হয়ে যাবে। এটি একটি সাধারণ ভুল ধারণা। প্রকৃতপক্ষে, তথ্যের গুরুত্ব অনুযায়ী যাচাইকরণে সময়ের তারতম্য হতে পারে।

ধরুন, আপনি জন্ম তারিখ ১০ বছর পরিবর্তন করতে চাচ্ছেন। সেক্ষেত্রে আপনার আবেদনটি অধিকতর তদন্তের জন্য সময় নিতে পারে। একইভাবে ছোটখাটো নামের বানান ভুলের আবেদন খুব দ্রুত অনুমোদিত হয়।

ইদানিং Legal Document Verification অনেক কঠোর করা হয়েছে। তাই সবসময় জেনুইন বা আসল কাগজপত্রের স্ক্যান কপি আপলোড করুন। সঠিক নিয়ম মেনে ধৈর্য ধরলে আপনি ঘরে বসেই আপনার সংশোধিত এনআইডি হাতে পাবেন।

তথ্যসূত্র: https://forms.portal.